রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৬ পূর্বাহ্ন

ভারতের জেন-জি আন্দোলনে নাহিদ ইসলামের সংহতি

নাহিদ ইসলাম

অনলাইন ডেস্ক:: ভারতের জেন-জি (জেনারেশন জেড) তরুণদের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। সেই সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধ এবং আটক নেতাদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার (১০ অক্টোবর) রাতে সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় তিনি এ সংহতি প্রকাশ করেন।

বার্তায় নাহিদ ইসলাম বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচনি ব্যবস্থার সংস্কার এবং গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার দাবিতে আন্দোলনরত ভারতের তরুণদের সঙ্গে দৃঢ়ভাবে সংহতি প্রকাশ করছি। ইন্টারনেট বন্ধ করে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারী ও নেতাদের আটক করা মৌলিক অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত। সুষ্ঠু নির্বাচনি ব্যবস্থা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্র-নাগরিকদের ওপর এমন দমন-পীড়ন চলতে পারে না।

তিনি বলেন, ভারতের তরুণদের এই লড়াই তাদের একার নয়। ঢাকা থেকে আমরাও আন্দোলনকারীদের পাশে আছি। ক্ষমতার জবাবদিহি, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও মানবিক মর্যাদার অভিন্ন দাবিতে দুই দেশের তরুণেরা ঐক্যবদ্ধ।

বাংলাদেশের ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ ইসলাম বলেন, ভারতের তরুণদের এই লড়াই বাংলাদেশের মানুষের কাছে পরিচিত। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন পরবর্তী সময়ে ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। জবাবে ফ্যাসিস্ট বাহিনী ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচার গুলি চালায়। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, সে সময় প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ প্রাণ হারান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের গণ-অভ্যুত্থানের সময় ভারতের শিক্ষার্থী, লেখক ও স্বাধীন কণ্ঠস্বরগুলো যে সংহতি দেখিয়েছিল, তা আমরা গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ ও সম্মান করি।

ভারতের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসের কথা উল্লেখ করে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, দেশটির গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের ইতিহাস সমৃদ্ধ। শাহীনবাগের নারী সমাজ, জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (জেএনইউ) এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধরে চলা সংগ্রাম আমাদের অনুপ্রাণিত করে। বাংলাদেশের জুলাই আন্দোলনের মতো ভারতেও নারীরা আন্দোলনের সম্মুখসারিতে উঠে এসেছেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, হিন্দুত্ববাদী আগ্রাসন, ফ্যাসিবাদ কিংবা যেকোনো ধরনের ধর্মীয় আধিপত্যবাদ দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে না। এ অঞ্চলের জনগণ কর্তৃত্ববাদ, সাম্প্রদায়িক ঘৃণা ও রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতাকে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে।

তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎ গড়ে উঠতে হবে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে। এমন সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যেখানে ধর্ম, জাত, লিঙ্গ কিংবা শ্রেণি কোনো বিভেদ তৈরি করবে না। যে সমাজ সংখ্যালঘুদের অধিকার হরণ করে, ভিন্নমতকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে এবং ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব নির্ধারণ করে, সেই সমাজ কখনো গণতান্ত্রিক হতে পারে না।

ভারতে আটক রাজনৈতিক বন্দিদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শারজিল ইমাম ও উমর খালিদকে বছরের পর বছর বিনাবিচারে আটকে রেখেছে ভারত সরকার। তরুণ নেতৃত্বসহ আরো কয়েক হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে। ভারতের এসব তরুণ আন্দোলনকারী ও রাজনৈতিক বন্দী আমাদের সহযোদ্ধা। তাদের সাহস পুরো দক্ষিণ এশিয়ার যুবসমাজকে অনুপ্রাণিত করে। আটক নেতাদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, সীমান্ত হত্যা বন্ধ, অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য বণ্টন, পরিবেশ রক্ষা এবং সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করা আমাদের অঙ্গীকার। আমরা এমন এক দক্ষিণ এশিয়া দেখতে চাই, যেখানে রাষ্ট্রগুলো একে অপরকে সমান মর্যাদা দেবে, সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহি করবে এবং সব দেশের সার্বভৌমত্ব নিরাপদ থাকবে।

বার্তার শেষাংশে ভারতের গণতান্ত্রিক জনগণের উদ্দেশে নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের জুলাই প্রজন্ম তাদের পাশে আছে। শক্ত থাকতে হবে, একে অপরকে রক্ষা করতে হবে, সাম্প্রদায়িক ঘৃণা প্রত্যাখ্যান করতে হবে এবং দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎকে বিভাজন ও ফ্যাসিবাদ থেকে রক্ষা করতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com